21
VIEWS
0
COMMENTS
 
SHARES
About this iReport
  • Not verified by CNN

  • Click to view Dipendu's profile
    Posted November 10, 2014 by
    Dipendu
    Location
    New York, Delhi, Kolkata and, New York

    More from Dipendu

    গণতন্ত্রের (নব) ধারাপাত

     

    অবশেষে ভারতীয় সভ্যতা বিজেপির সাহসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও তাঁর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করতে বাধ্য করল। আবার উচ্চারণ করি। দেশে কতটা সামন্ত্রতন্ত্রের অবশেষ থেকে গেছে সেটা মন্ত্রিসভা প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে মালুম হল। তবে বলতে হবে বাধ্যবাধকতা যাই থাক মন্দের ভালো এন ডি এ মন্ত্রিগোষ্ঠীতে কয়েকজন ট্যালেন্ট এলেন। সঙ্গে মুসলিম প্রতিনিধি। খবরে প্রকাশ, বণিকসভা অ্যাসোচ্যাম বলছে, ''ক্যাবিনেটে এমন নেতাদের নেওয়া হয়েছে, যারা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য পরিচিত। এই সব মাপকাঠিতে মোদী যে কোনও আপস করছেন না, এটা তারই প্রমাণ''
    এন ডি এ সরকার গঠনের পর সরকারকে সৌজন্য দেখানোর সময় সম্ভবত শেষ। বিরোধীরা ফাঁক ফোকর খোঁজা শুরু করে দিয়েছে। ভারতীয় ঐতিহ্যের সৌজন্যের কথা মাথায় থাকলেও সংসদীয় গণতন্ত্রের সুযোগ নেওয়ার অপেক্ষায় প্রায় সব দল। ইউ পি এ সরকারের বা কংগ্রেসের ২০১৪ সালের নির্বাচনী ব্যাথতা নিয়ে যারা অসংসদীয় উচ্ছ্বাসের আবর্তে আছেন তাড়া এবার ভাবতে বাধ্য হবে। কিছুদিন আগে সংসদে গঠিত হয়েছে 'কংগ্রেস ৪৪' ছায়া মন্ত্রিসভা। অসম্ভব প্রাণপ্রাচুর্যে টইটম্বুর একঝাঁক তরুণ কংগ্রেসি মন্ত্রী আইনসভায় নিজেদের প্রমাণ করার জন্য পাঞ্জা কষছে। তাঁদের সঙ্গত করার জন্য আছেন প্রবীণ কিছু সাংসদ। এটা যদি সংসদের ভেতরের ছবি হয় তবে বাইরে রাহুল গাঁধির নেতূত্বে গণতান্ত্রিক 'যুব কংগ্রেস' দেশে ডিজিটাল কংগ্রেস গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছে।
    এন ডি এ সরকারের মধুচন্দ্রিমা শেষে অন্যন্য বিরোধী দলের নেতারাও সচেষ্ট রয়েছেন। 'জনতা পরিবার' নতুন পথ খুঁজছে। ফিরে যেতে চাইছে সমাজবাদী পরীক্ষিত পথে। জয়প্রকাশ নারায়ণের পথে। সেই পথ ধরে 'জনতা পরিবারের' বিভিন্ন দল এক ছাতার তলায় ফিরে আসতে চাইছে। গোবলয়ের মাটি হারান দলগুলি ইতিমধ্যে নিজেরা বৈঠকও করে ফেলেছে।
    ১৯৭৫ সাল জরুরী অবস্থা। ট্রেন ঠিক সময়ে আসে। সরকারি অফিসে ঘুষ খাওয়া বন্ধ। জরুরী অবস্থা জারী করা ঠিক না ভুল ছিল সে সবের আলোচনা বহুবার হয়েছে। রাহুল গাঁধি নিজেও বলেছেন, ''ওই সময় আমি থাকলেও ইন্দিরাজী যেটা করেছিলেন হয়ত আমাকেও সেটা করতে হত।'' জরুরী অবস্থার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১৯৭৭ সালে গঠিত হল 'জনতা পার্টি'। জ্যপ্রকাশের ডাকে সাড়া দিয়ে কংগ্রেসের কয়েকটি বিছিন্ন গোষ্ঠী, তৎকালীন জনসংঘ, ভারতীয় লোক দলকে নিয়ে জনতা পার্টি গড়ে তোলার কথা আমরা জানি। এবং বাবু জগজীবন রামের 'কংগ্রেস ফর ডেমক্রেসি', বামফ্রন্টের ৪ টি দল, ডিএমকে, অকালি দল ওই মোরচাকে বাইরে থেকে সমর্থন করেছিল। পরের ইতিহাস আমাদের জানা। ১৯৭৭ সালের 'জনতা শাড়ি', 'জনতা মিল' অর্থাৎ জনতা সরকার। কিন্তু এই সরকার স্থায়ী হল না। ১৯৮০ সালে 'জনসংঘ' জনতা পার্টি থেকে বেড়িয়ে এসে বিজেপি গঠন করল। তারপর মূলায়ম সিংহ যাদব, লালু প্রসাদ যাদব, নীতিশ কুমার, এইচ ডি দেবগৌড়া, বিজু পট্টনায়ক আলাদা আলাদাভাবে দল গঠন করে। এবং নিজের নিজের রাজ্যে দলিত শ্রেণী বা অব্রাহ্মণ শ্রেণীর সমর্থনে এই সেদিন পর্যন্ত নিরাপদে ছিল। এর মূলে ছিল প্রান্তিক শ্রেণী এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিপি সিংহয়ের নেতূত্বে 'মণ্ডল কমিশনের' ঘোষণা। ১৯৯০ সালের ৭ আগস্ট বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহ অন্যন্য শ্রেণীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত সুপারিশ কার্যকরী করার কথা ঘোষণা করেন। এর ফলে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরীর ক্ষেত্রে ২৭ শতাংশ চাকরী অন্যান্য শ্রেণী সমূহের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে গঠিত মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট জমা পড়েছিল ১৯৮০ সালে। এই কমিশনে সদস্য সংখ্যা ছিল ৫ জন। কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিন্ধেশব্রী প্রসাদ মণ্ডল। মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের শতকরা ৫২ ভাগ মানুষ অন্যান্য পিছড়ে বর্গের মধ্যে পড়ে। বা অন্যান্য শ্রেণীর মধ্যে পড়ে। কমিশন সারা দেশে ৩৭৪৩ টি জাতিকে অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণী হিসাবে চিহ্নিত করেছে। ১৯৮৮ সালে ভিপি সিংহয়ের নেতূত্বে গড়ে উঠেছিল 'জনতা দল'। নব্বইয়ের দশকে জনতা দলও ভেঙ্গে যায়। 'মণ্ডল কমিশনের' রিপোর্টকে হাতিয়ার করে গোবলয়ে এতদিন পর্যন্ত যাদব, কূর্মী, হরিজন, দলিতদের নিয়ে রাজ্যপাট সালাচ্ছিল বিভন্ন ঝাণ্ডার দলগুলি। কিন্তু বর্তমানে নরেন্দ্র মোদীর হাওয়া এবং দলিত শ্রেণীর নতুন মূল্যবোধ অতীতের 'জনতা কফি' ভালো লাগছে না। শিক্ষিত বেকার যুবকরা মর্যাদা চাইছে। তাই সংখ্যা গরিষ্ঠ এন ডি এ সরকার 'জনতা পরিবারকে' চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে।
    পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম ৩৪ বছর পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় দলটির মতাদর্শ এবং স্থায়িত্ব নিয়ে ব্যপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইত্যাবসরে দেশের প্রধান বাম দলটি সর্বহারা শ্রেনীর তত্ত্ব থেকে সন্তর্পণে দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে। দলিত শ্রেণীর দাবি দাওয়া নিয়ে সিপিআইএম আলাদাভাবে আন্দোলন করতে চাইছে।
    কয়েক বছর আগে কমরেড বি টি রণদিভে 'জাত-পাত, শ্রেণী ও সম্পত্তি-সম্পর্ক' বিষয়ে লিখছেন, ''একথা স্বীকার করতেই হবে যে, জাত-পাত ব্যবস্থা ও সাপম্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মতাদর্শগত সংগ্রাম কিছু পরিমাণে অবহেলিত হয়েছে। সে কারণেই সিপি (আই) এম তার সাপম্রতিক প্লেনামে সামন্ত ও আধা-সাম্নতবাদী মতাদর্শের বিরুদ্ধে ব্যপক সংগ্রাম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংগ্রাম ছাড়া এবং জাত-পাতগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সক্রিয়তা ছাড়া অর্থনৈতিক আন্দোলন থেকে উদ্ভূত সাধারণ চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।'' সম্প্রতি কমরেড সীতারাম ইয়েচুরি 'বূহত্তর জনতাদল' গঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন।
    CNNIBN on line এ আমরা পাচ্ছি, ''We welcome the move by the constituents of erstwhile Janata Parivar to come together on one platform to take on a resurgent BJP....We'll, however, await formulation of policies and principles on which these parties shape up a coalition at the national level before giving a thought to join it," CPI(M) Politburo member Sitaram Yechury said.
    "Let these parties first work on its principles and policies which are not clear as yet," he said when asked whether CPI(M) and other left parties would consider joining the proposed coalition.''

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক পরিসর বেড়েছে। এই পরিসরে বিজেপি দলগতভাবে নিজেদের গণভিত্তি বাড়াতে চাইছে। সুযোগ কাজে লাগানোর জন্যি সদ্য নিরবাচিত সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়কে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হল। খুব সঠিক সিদ্ধান্ত।
    বামপন্থী এবং দক্ষিণপন্থী নেতাদের কাছে আমার আন্তরিক আমন্ত্রণ, আপনারা গণতন্ত্রের বূহত্তর পাঠশালায় শিক্ষিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সালের পর থেকে পরম্পরা মেনে রাজনীতি করছেন। তাই আমার এই লেখা ব্যগতিগতস্তর থেকে নেবন না। আমাকে একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হিসাবে দেখুন। আমার লেখা পছন্দ না হলে অব্রাহ্মণ ভেবে মুঘ ঘুড়িয়ে থাকুন। রাজনীতির পর্যবেক্ষণে ইতিহাস আসবেই। আসুন মানসিক এবং মানবিক দারিদ্র কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করি। আন্তর্জাতিক উদারতায় অভ্যস্ত হই। 'গণতন্ত্র' আপনার আমার পরিবারের যোগসূত্র।

    Add your Story Add your Story